প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৮ জুলাই ২০২২

উপবৃত্তি কার্যক্রম

 

অর্থের অভাবে শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বৃত্তি প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ এপ্রিল, ২০১০ খ্রি: তারিখে একটি ট্রাস্ট ফাণ্ড গঠনের লক্ষ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে একটি লিখিত নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ফাণ্ড গঠনের সম্ভাব্যতা পরীক্ষাপূর্বক প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রণয়নের জন্য মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীকে আহবায়ক করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ১৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব কে আহবায়ক করে ট্রাস্ট ফাণ্ড গঠন  ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। মুখ্যসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৯ আগস্ট, ২০১০ খ্রি: তারিখের সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) কে আহবায়ক করে একটি টেকনিক্যাল উপ-কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর সভাপতিত্বে ৫ টি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্তের আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩১ জানুয়ারি, ২০১১ খ্রি: তারিখের পত্রে ট্রাস্ট ফাণ্ড গঠন সম্পর্কিত প্রতিবেদন, নীতিমালা ও আইনের খসড়া পরিকল্পনা কমিশনে পেশ করা হয়।

মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফাণ্ড আইন ২০১১ এর খসড়া প্রণয়ন করে Rules of Business, 1996 এবং সচিবালয় নির্দেশমালা, ২০০৮ এর বিধান অনুযায়ী উক্ত ট্রাস্ট ফাণ্ড সংক্রান্ত প্রণীত খসড়া আইনটি ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১১ খ্রি: তারিখের মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণীত প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১১ বিগত ১২ ডিসেম্বর, ২০১১ খ্রি: তারিখে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। ১১ মার্চ ২০১২ খ্রি: তারিখে নবম জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট বিল, ২০১২ পাস হয়। সংবিধানের ৮০ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ১৪ মার্চ, ২০১২ খ্রি: তারিখে উক্ত বিলে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং একই তারিখে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২ বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট এর স্থায়ী তহবিল হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সিডমানি হিসেবে  ১০০০.০০ (এক হাজার ) কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে যা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তফসিলি ব্যাংকে এফ. ডি. আর. হিসেবে রক্ষিত আছে। উক্ত এফ. ডি. আর. থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ দ্বারা ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের শুধুমাত্র নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি  প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ছাত্রীদের পাশাপাশি ছাত্রদেরকেও উপবৃত্তি কার্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে সকল উপবৃত্তি প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে স্থানান্তরিত হবে মর্মে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

উদ্দেশ্য:

  • ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির হার বৃদ্ধি;
  • ছোট পরিবার গঠনে উৎসাহ প্রদান এবং প্রজনন হার নিয়ন্ত্রণ;
  • চাকুরির সুযোগ ও উপার্জন ক্ষমতা বৃদ্ধি;
  • দারিদ্র্য বিমোচন ও জেন্ডার সমতা অর্জন; এবং
  • সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন।

শিক্ষার্থী নির্বাচনের শর্তাবলী:

  • প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, এতিম, অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, নদীভাঙ্গন কবলিত পরিবারের সন্তান এবং দুস্থ পরিবারের সন্তানগণ উপবৃত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে।
  • তৃতীয় লিঙ্গধারী সকল শিক্ষার্থী উপবৃত্তি প্রাপ্য হবে এবং এদের তালিকা পৃথক ভাবে প্রেরণ করতে হবে।
  • উপবৃত্তি প্রাপ্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীর অভিভাবকের বার্ষিক আয় মোট ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকার কম হতে হবে।
  • অভিভাবক/পিতামাতার মোট জমির পরিমাণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাসকারী ০.০৫ শতাংশ, পৌরসভা এলাকায় ০.২০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকায় ০.৭৫ শতাংশের কম থাকতে হবে।
  • সংশ্লিষ্ট এলাকার সিটি কর্পোরেশন/ পৌরসভার মেয়র/ কাউন্সিলর/ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা/ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রদত্ত আয় ও জমির পরিমাণ সম্পর্কিত সনদপত্র যুক্ত করতে হবে।
  • উপবৃত্তিপ্রাপ্তির জন্য শিক্ষার্থীকে স্নাতক (পাস)/সমমান (ফাজিল) পর্যায়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হতে হবে। ২য় বর্ষ এবং ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে স্নাতক (পাস)/ সমমান (ফাজিল) পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ বা নির্বাচনী পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসাবে উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • স্নাতক (পাস)/সমমান (ফাজিল) পর্যায়ের প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর বিরতিহীনভাবে ২য় বর্ষ ও ৩য় বর্ষে অধ্যয়ন করতে হবে এবং স্নাতক(পাস)/সমমান পর্যায়ের পরীক্ষায় অংশ্রগ্রহণ করতে হবে। উল্লেখ্য যে, ১ম, ২য়, ৩য় বর্ষের যেকোনো বর্ষে পুনঃভর্তি হলে উক্ত শিক্ষার্থী অনিয়মিত হিসাবে বিবেচিত হবে এবং উপবৃত্তিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে না।
  • নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে শ্রেণিকক্ষে (ক্লাস) কমপক্ষে ৭৫% উপস্থিতি থাকতে হবে। এক্ষেত্রে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে (বাংলা/ইংরেজি) কাউন্ট করা যেতে পারে।
  • ছাত্র-ছাত্রীর ভর্তিকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়/ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি এবং পাঠদানের অনুমতি থাকতে হবে।

শিক্ষার্থী নির্বাচন কমিটি:

সরকারি  ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানেই উপবৃত্তি প্রাপ্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘শিক্ষার্থী নির্বাচন কমিটি ’ গঠন করতে হবে।

 ক. সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নির্বাচন কমিটি:

(১) অধ্যক্ষ, সংশ্লিষ্ট কলেজ- সভাপতি

(২) একজন শিক্ষক প্রতিনিধি- সদস্য

(৩) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার- সদস্য

(৪) একজন অভিভাবক প্রতিনিধি (অধ্যক্ষ কর্তৃক মনোনীত)- সদস্য

(৫) শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক- সদস্য সচিব

সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপবৃত্তি ও অন্যান্য ভাতার হার:

শ্রেণি

স্নাতক (পাস) ও সমমান

উপবৃত্তির হার 

   টাকা

মোট টাকা

বই ক্রয়

পরীক্ষার ফিস

সর্বমোট

মন্তব্য

১ম বর্ষ

২০০ x ১২

২৪০০/=

১৫০০/=

১০০০/=

৪৯০০/=

 

২য় বর্ষ

২০০ x ১২

২৪০০/=

১৫০০/=

১০০০/=

৪৯০০/=

 

৩য় বর্ষ

২০০ x ১২

২৪০০/=

১৫০০/=

১০০০/=

৪৯০০/=

 

 

(খ) বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী নির্বাচন কমিটি:

(১) গভর্নিং বডি/ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি- সভাপতি

(২) শিক্ষকদের মধ্য হতে নির্বাচিত গভর্নিং বডির একজন শিক্ষক প্রতিনিধি- সদস্য

(৩) গভর্নিং বডির একজন অভিভাবক প্রতিনিধি (অধ্যক্ষ কর্তৃক মনোনীত)- সদস্য

(৪) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (সংশ্লিষ্ট উপজেলা)- সদস্য

(৫) সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ- সদস্য সচিব

 

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপবৃত্তি ও অন্যান্য ভাতার হার:

শ্রেণি

স্নাতক (পাস) ও  সমমান

উপবৃত্তির হার  টাকা

মোট টাকা

টিউশন ফি

মোট টাকা

বই ক্রয়

পরীক্ষার ফিস

সর্বমোট

মন্তব্য

১ম বর্ষ

২০০ x ১২

২৪০০/=

৬০ x ১২

৭২০/=

১৫০০/=

১০০০/=

৫৬২০/=

 

২য় বর্ষ

২০০ x ১২

২৪০০/=

৬০ x ১২

৭২০/=

১৫০০/=

১০০০/=

৫৬২০/=

 

৩য় বর্ষ

২০০ x ১২

২৪০০/=

৬০ x ১২

৭২০/=

১৫০০/=

১০০০/=

৫৬২০/=

 

 

শিক্ষার্থী নির্বাচনের নিয়মাবলী:

(ক) প্রাথমিক নির্বাচন:

(১) প্রথমত, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে হতে উপরোক্ত শর্তাবলির আলোকে শিক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট আবেদিত ছাত্র এবং ছাত্রীর পৃথক তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।

(২) প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ছাত্রী তালিকাকে ১০০% ধরে তার মধ্যে হতে ৭৫% ছাত্রীকে উপবৃত্তির জন্য নির্বাচন করতে হবে।

(৩) একইভাবে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ছাত্র তালিকাকে ১০০% ধরে তার মধ্যে হতে ২৫% ছাত্রকে উপবৃত্তির জন্য নির্বাচন করতে হবে।

(খ) চূড়ান্ত নির্বাচন:

(১) শিক্ষার্থী নির্বাচনী কমিটি উপবৃত্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন চূড়ান্ত করবে এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নাম, শ্রেণি রোল নম্বর ও কলেজের নাম চূড়ান্ত করবেন।

(২) নির্বাচনি কমিটি উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর তালিকা চূড়ান্ত্ভাবে প্রস্ততকালে একটি রেজুলেশন করবেন। উক্ত রেজুলেশন এর

একটি কপিসহ উপবৃত্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট অফিসে প্রেরণ করবেন।

উল্লেখ্য যে, রেজুলেশন এর কপি ব্যতিত নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

একনজরে উপবৃত্তি (স্নাতক) বিতরণের চিত্র:

উপবৃত্তির বছর

উপবৃত্তি বিতরণের বছর

ছাত্রী সংখ্যা (জন)

ছাত্র সংখ্যা (জন)

মোট শিক্ষার্থী (জন)

বিতরণকৃত টাকার পরিমাণ

মন্তব্য

২০১২-১৩

২০১৩

১,২৯,৮১০

০০০

১,২৯,৮১০

৭২,৯৫,৩২,২০০

শুধু মাত্র ছাত্রীদের মাঝে

২০১৪-১৫

২০১৫

১,৪৮,৪০২

১৪,৬৭৭

১,৬৩,০৭৯

৯১,৬৫,০৩,৯৮০

 

২০১৫-১৬

২০১৬

১,৬৯,৮৪৬

৩৯,০৪০

২,০৮,৮৮৬

১১৩,৬১,৩৩,৫৬০

 

২০১৬-১৭

২০১৭

১,৮৬,৭১৪

৬১,১১৯

২,৪৭,৮৩৩

১৩৪,২৪,৭৫,৪৬০

 

২০১৭-১৮ ২০১৮ ১,৯০,২৪৩ ৬৯,৮২৭ ২,৬০,০৭০ ১৩৭,৬০,৮৪,০৪০

 

 

২০১৯-২০ ২০২০ ১,৪৬,৮৫৮ ৬৩,১৯১ ২,১০,০৪৯ ১১০,৯৮,৯২,৩৪০  
২০২০-২১ ২০২১ ১,২৪,৩০৫ ৫৭,৭৯৮ ১,৮২,১০৩ ৯৭,০৯,৮৫,৫৮০  
২০২১-২২ ২০২২ ৮১,৫৪২ ৫৮,০০৬ ১৩৯,৫৫৩ ৬৮,৩৮,০৯,৭০০  

 

 



Share with :

Facebook Facebook